Shopping cart

  • Home
  • বাংলাদেশ
  • অন্যান
  • তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই।

তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই।

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর অফিস: ‘হামার তিস্তা নদী যাই বাঁধি দিবো, হামরা তাকে ভোট দিমু।’ কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে এখন এই এক সুর। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার—প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও ভোটারদের মাঝে কাজ করছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ। তিস্তাপারের মানুষের স্পষ্ট দাবি— এবার আর মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, যারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে, ভোট পাবে তারাই।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের বড় একটি অংশ তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে বিভক্ত। এখানকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। কিন্তু প্রতি বছর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে চরের মানুষের একটাই চাওয়া—‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন ও নদীশাসন। এমনকি আশ্বাস না পেলে অনেকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কিশোরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল বারী (৬০) জানান, তাঁর বাড়ি নদী ভেঙেছে তিন বার। আগে চাষাবাদ করে সংসার চললেও এখন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী মোঃ আব্দুল আজিজের গল্প আরও করুণ। ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গত ২০ বছর ধরে যাযাবরের মতো এক চর থেকে অন্য চরে ঘুরছেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘নদী হামার জীবন তেনা তেনা করি ফ্যালাইছে বাহে।’

সরেজমিনে বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও এবার ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ আছে। তবে অভিযোগও কম নয়। চরের বাসিন্দারা নিয়মিত খাজনা দিলেও দুর্যোগের সময় কাউকে পাশে পান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কিশোরপুর চরের বালু বহনকারী ঘোড়ার গাড়িচালক আবুল হোসেন ও তৈয়ব আলীদের কণ্ঠেও একই দাবি—তারা আর পরবাসী হয়ে থাকতে চান না। তিস্তা নদীশাসনের মাধ্যমেই তারা তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করতে চান।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার একটি একক আসন নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম—৩। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০, যার একটি বড় অংশই চরাঞ্চলের বাসিন্দা। এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর—উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *