নিজস্ব প্রতিবেদক: অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং বাবা–মায়ের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেন রাহাত বিন ইউনুস। সুনামগঞ্জ জেলার বড়খাল, বাংলাবাজারের এই কৃতি সন্তান ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়ে সম্প্রতি কৃতিত্বের সঙ্গে তা সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অর্জন করেছেন বহুল কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসক পরিচয়—ডা. রাহাত বিন ইউনুস (আরএমইউ)।
ডা. রাহাত বিন ইউনুসের শিক্ষাজীবন শুরু থেকেই ছিল ধারাবাহিক সাফল্যে ভরপুর। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন দেশের স্বনামধন্য ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে। পরবর্তীতে তিনি মাগুরা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. রাহাতের পরিবারও শিক্ষার আলোয় আলোকিত। তাঁর বাবা মো. ইউনুস আলী ভাটবাড়ি আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মা মোসাম্মৎ শামীমা আক্তার বীরচন্দ্রনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষক পরিবারে বেড়ে ওঠার ফলে শৈশব থেকেই রাহাতের মাঝে গড়ে ওঠে অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ।
ছেলেকে চিকিৎসক হিসেবে দেখতে পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ডা. রাহাতের মা মোসাম্মৎ শামীমা আক্তার। তিনি বলেন, “মহান রবের দরবারে অশেষ শুকরিয়া। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিশুকাল থেকেই রাহাতের লেখাপড়ার প্রতি গভীর মনোযোগ, অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং রাত জাগা সাধনা। এর সঙ্গে ছিল বাবা–মায়ের নিরন্তর প্রেরণা ও দোয়া।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা একজন চিকিৎসক ছিলেন। সেই সেবামূলক পেশার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি মনে মনে পোষণ করেছিলেন—নিজে না পারলেও সন্তান ডাক্তার হবে এবং তিনি ‘ডাক্তারের মা’ হবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আজ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মেডিকেল ডিগ্রি অর্জনের পরপরই ডা. রাহাত বিন ইউনুস মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে নিজের জন্মভূমি বড়খাল, বাংলাবাজার এলাকার দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আগ্রহের কথা জানান তিনি। সদ্য পাশ করা এই চিকিৎসক বলেন, গ্রামের গরিব রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই তিনি নিজ এলাকায় একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।
সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডা. রাহাতের মা বলেন, “দোয়া করি, আমার ছেলে যেন একজন আদর্শ চিকিৎসক হয়ে অসুস্থ ও পীড়িত মানুষের সেবাকেই দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে।”
ডা. রাহাত বিন ইউনুসের এই অর্জন ও মানবিক উদ্যোগ তাঁর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নিজ এলাকার মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের ও অনুপ্রেরণার বিষয়।



