জবি প্রতিনিধি: হল বিহীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্তের কোন মূল্য নেই, বার বার বাড়ির মালিক ও স্থানীয়দের নিপীড়নের শিকার হতে হয় পরিবার ছেড়ে এই নিষ্ঠুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বলে মন্তব্য করেন নাজিব সাদিক।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাজিবের সাথে স্থানীয় তবে ভাড়া বাসায় থাকা সজিবের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে গুরুতর জখম করলে এমনটি মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে গেট বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয় ভাড়াটিয়া সজিব ও জবি শিক্ষার্থী নাজিবের মধ্যে। এক পর্যায়ে নাজিবকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন সজিব পরক্ষণে নাজিব ধাক্কা দিলে রুম থেকে রড এনে আঘাত করে নাজিবের হাতে। ফলে গুরুতর আহত হয় নাজিব।
পরে নাজিব বন্ধুদের খবর দিলে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে গেলে মুহূর্তে দীর্ঘ হতে থাকে গ্যাঞ্জাম। ভাড়াটিয়া সজিবের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন শায়লা এসে শিক্ষার্থীদের বাজে ভাষায় কথা বল্লে শিক্ষার্থীরা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে তাদের নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখান এবং শায়লার ভাই শিক্ষার্থীদের হুশিয়ার করে বলেন ঝামেলা দীর্ঘ হলে তোদের দেখে নিবো।
অসহায় হয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলকে বিষয়টি জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ১১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ চৌধুরীকে পাঠালে তিনি অবস্থা বেগতিক দেখে সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের শরণাপন্ন হন এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য দ্বারা উভয়পক্ষকে থানায় নিয়ে আসেন।
পরে ঘটনার বর্ণনা শুনে ও যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ চৌধুরী এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ও ভাড়াটিয়া সজিবকে সতর্ক করে চলতি মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করেন।
আহত শিক্ষার্থী নাজিবের চিকিৎসার কথা উঠলে তৌহিদ চৌধুরী নিজ অর্থায়নে ভিক্টিমের যাবতীয় চিকিৎসা খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
এ বিষয়ে তৌহিদ চৌধুরী জানান, প্রায় ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীর সমস্যার কথা শুনে আহ্বায়ক হিমেল ভাই আমাকে দ্রুত সেখানে যাওয়ার আদেশ দেন। আমি এসে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে থানায় জানালে বিষয়টি থানাতেই সমাধান হয়।
তিনি আরও বলেন, এটি জবি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের চিত্র। আবাসন সংকট নিরসনে প্রশাসনকে আরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আহ্বান থাকবে।
সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ভাই ইসলাম সমোঝোতাকালে বলেন, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। তারা চাইলেই কয়েকশো শিক্ষার্থী এসে একটা বড় কোন ঘটনা ঘটাতে পারতো, তারা তা করেনি। আশা করবো অভিযুক্ত সজিব এমন কোন ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটাবে না এবং চলতি মাসের মধ্যেই পরিবার সহ বাড়ি ত্যাগ করবেন। শিক্ষার্থীরা যেহেতু মাফ করেছে এটা সমাপ্ত হচ্ছে তবে আপনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে থাকবে।



