জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষক অপদস্থ এবং প্রক্টরকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এক পক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও হুমকি দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।
অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ, অডিটোরিয়ামের ভেতরে ঢুকে প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন জকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উভয় সংগঠন এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তোলে।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসানের দিকে আঙুল তুলে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়।
জকসুর দাবি, এ ধরনের আচরণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের জন্য চরম উদ্বেগজনক। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের পক্ষে সহ-দপ্তর সম্পাদক মু. ফজলে রাব্বী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে অডিটোরিয়ামের গেট বন্ধ রাখা হয়।
তবে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও এজিএস মাসুদের নেতৃত্বে বন্ধ গেটে লাথি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রক্টর ও শিক্ষকরা বাইরে বেরিয়ে এলে জকসু নেতারা প্রক্টরকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ‘মব’ তৈরি করেন।
ছাত্রদল ঘটনাটিকে ‘শিবিরের মব’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংশ্লিষ্টদের ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা এবং কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
উভয় পক্ষই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। একইসঙ্গে শিক্ষক সমিতিও যেন অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান গ্রহণ করে, সে আহ্বান জানিয়েছে জকসু।



