মোঃ রাকিব হাসান,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে রেহেনা বেগম উর্মি নামের এক নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে ঘুষ লেনদেনের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি ভিত্তিহীন হওয়ায় এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্মানহানি ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় রেহেনা বেগম উর্মিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. ইমাম রাজী টুলু জানান, গত সোমবার ওই নারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিষয়টি তদন্ত করেন। মঙ্গলবার উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে অভিযোগের পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি যে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই পদের জন্য অভিযোগকারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনপত্রও পাওয়া যায়নি।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম বলেন, “একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরুর বদলির আদেশ হওয়ার পর রেহেনা বেগম উর্মি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইউএনও তার কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে শুরু থেকেই ইউএনও এ অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে আসছিলেন।
এদিকে অভিযোগকারী নিজেই এখন সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার আসামি হওয়ায় তেঁতুলিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



