আমিনুর রহমান পরান (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ ও কৃষি কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ এবং প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। আজ সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকবৃন্দের উদ্যোগে দুপুর বারো ঘটিকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন কুরবাননগর ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক এম এ বারী সিদ্দিকী। এতে ১০ দফা দাবি সংবলিত মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাসুক আহমদ।
এছাড়াও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে প্রতিবাদী বক্তব্য রাখেন আব্দুল মালেক, সায়েদ আলী, আতিকুর রহমান, আব্দুল্লা, শাহীন আলম, শফিক মিয়া, সালমান আহমদ, কাওছার আলমও কবি মাজহারুল ইসলাম। মানববন্ধনে এলাকার বিপুল সংখ্যক বঞ্চিত কৃষক ও সচেতন সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে জনভোগান্তি নিরসনে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১০ দফা দাবিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. তালিকা সংস্কার: বর্তমান বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নতুন তালিকা প্রণয়ন।
২. ওজনে কম দেওয়ার বিচার: সরকারি চাল বা মালামাল ওজনে কম বিতরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. সেবামূল্য প্রকাশ: ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবার তালিকা এবং নির্ধারিত খরচের বিবরণ নোটিশ বোর্ডে টাঙানো।
৪. উন্নয়ন কাজের হিসাব: এলাকার প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজের প্রকৃত খরচের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা।৫. অনুদানের স্বচ্ছতা: যেকোনো ধরনের সরকারি অনুদান প্রাপ্তির তালিকা প্রকাশ করে দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করা।
৬. কাঁচা রাস্তা সংস্কার: ইউনিয়নের সকল কাঁচা রাস্তা অনতিবিলম্বে অন্তত ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করা।
৭. জন্মনিবন্ধনে হয়রানি বন্ধ: জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা।
৮. ভাতা প্রদানে স্বচ্ছতা: বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন বন্ধ করা।
৯. বালতি প্রথার অবসান: ইউনিয়ন অফিসে বালতি দিয়ে মাপার প্রথা বন্ধ করে ডিজিটাল মিটারের মাধ্যমে চাল ও অন্য সামগ্রী পরিমাপ করা।
১০. রসিদ ছাড়া লেনদেন বন্ধ: ইউনিয়ন অফিসে রসিদ বা স্লিপ ছাড়া যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে এই ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।



