রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪
Homeফিচারমহাবিশ্বে কোটি কোটি নক্ষত্র তার পরেও মহাবিশ্ব অন্ধকার কেন?

মহাবিশ্বে কোটি কোটি নক্ষত্র তার পরেও মহাবিশ্ব অন্ধকার কেন?

এর পেছনে প্রধান দুটি কারণ রয়েছে।
১. দূরত্ব অতিক্রমকালে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি বা, মহাজাগতিক লালসরণ।
২. মহাবিশ্বের প্রসারণ।
এবার একটু সংক্ষেপে ভেঙ্গে দেখি।

১. আমরা জানি, আলো একটি তাড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ এবং এর দৃশ্যমান অংশের তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 400 থেকে 700 ন্যানোমিটার। এর চেয়ে বেশি বা, কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে আমাদের চোখ দেখতে পায় না। গামা রশ্মি, অতিবেগুনী, রেডিও, ইনফ্রারেড,এক্সরে,মাইক্রোওয়েভ, অতিবেগুনী রশ্মিসহ সবই তাড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের বিভিন্ন অংশ। এদের প্রত্যেকের তরঙ্গদৈর্ঘ্য একেক মানের৷
এবার ধরা যাক, বহুদূরের কোন নক্ষত্র হতে আলো নির্গত হয়ে আমাদের দিকে আসছে। এবার সে দূরত্ব হতে আগত নক্ষত্রটির আলো আমাদের নিকট পৌঁছাতে পৌছাতে তার ভাগ্যে কি ঘটবে তা বেশ জটিল।
এবার, আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্বের দিকে নজর দেয়া যাক। আপেক্ষিকতা অনুযায়ী, মহাবিশ্বে স্হান ও কাল একত্রে একটি চাদরের মতো চতুর্মাত্রিকভাবে অবস্হান করছে। মহাবিশ্বের সবকিছুই এ স্হান কালের ভেতরই অবস্হিত। একই সাথে, চাদররুপী এ স্হান-কালের প্রকৃতি অনেকটা অনেকটা রাবারের শীটের মতো। অর্থ্যাৎ, তাতে বক্রতা সৃষ্টি হয়। ভারী বস্তুর প্রভাবে তা বেঁকে যায়।
উদাহরণস্বরুপ ধরুন, আপনি একটি রাবারের শীট নিলেন ও তাতে নিম্নোক্ত ছবির মতো একটি তরঙ্গ অঙ্কন করলেন। এবার যদি শীটটিকে টেনে লম্বা করেন, তবে শীটটি লম্বা হবে এবং সেইসাথে লক্ষ্য করুন, তরঙ্গটির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আকার কিন্তু বৃদ্ধি পেয়েছে! অর্থ্যাৎ বড়ো হয়েছে। এটি কেনো হলো? কারণ, শীটটি নিজে বড়ো হওয়ায় অঙ্কিত তরঙ্গটির মধ্যকার স্হানও কিন্তু প্রসারিত হয়েছে। তাই। এ ধারণাটি মহাবিশ্বের প্রসারণের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার একটি উৎকৃষ্ট প্রেক্ষাপট হলো এই কসমোলজিক্যাল রেডশিফট।
যখন দূরবর্তী কোন নক্ষত্র হতে নির্গত আলো আমাদের কাছে আসে তখন কিন্তু তা স্হান কালের মধ্য দিয়েই আসে, যেহেতু মহাবিশ্বের কোন কিছুই স্হান কালের বাইরে নয়। মহাবিশ্ব প্রসারিত হওয়ায় স্হান কালও প্রসারিত হচ্ছে। ঠিক রাবারের শীটটির প্রসারণের মতো। স্হান কালের এ প্রসারণ তাই দূরের নক্ষত্র হতে আগত আলোর গতিপথকেও প্রসারিত করে দেয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই সে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যও প্রসারিত হয়ে যায় বা বড়ো হয়, ঠিক যেভাবে শীটটি প্রসারিত হওয়ার ফলে তার উপর অঙ্কিত তরঙ্গের দৈর্ঘ্যও প্রসারিত হয়েছিলো! তাই তার বর্ণালী লালের দিকে সরে যায়। বা, অন্য কথায় তার তীব্রতা বা শক্তি কমতে থাকে ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এবার, সেই দূরবর্তী নক্ষত্রগুলোর দিকে দেখি। তাদের থেকে নির্গত আলোকরশ্মি আমাদের নিকট পৌঁছানোর সময়ে তা, যতো দূরত্ব অতিক্রম করতে থাকে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যও ততো বৃদ্ধি পেতে থাকে ও দূর্বল হতে থাকে, উপরোক্ত কারণে। আর তাই মহাবিশ্বের দূরবর্তী গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রগুলো থেকে যখন আলো আমাদের কাছে আসে তখন তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়ো হতে হতে দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য পার হয়ে ইনফ্রারেড তরঙ্গের দিকে চলে যায়৷ আর ইনফ্রারেড রশ্মি আমরা দেখতে পাই না! তাই সেগুলো থেকে কিন্তু আলোকরশ্মি ঠিকই আমাদের কাছে আসছে কিন্তু তা দৃশ্যমান আলোর অংশ না হওয়ায় আমাদের চোখ আলোর সে অংশ দেখতে পায় না, তাই তাদেরও আমরা দেখি না।

২. এবার দেখি, মহাবিশ্বের প্রসারণ। আমরা জানি, মহাবিশ্ব প্রসারমান এবং আমাদের থেকে যতো দূরবর্তী অন্ঞ্চলে যাবো, এ প্রসারণের গতি ততোই বৃদ্ধি পাবে। এমনকি, মহাবিশ্বের দূ্রবর্তী অন্ঞ্চলসমুহের প্রসারণ এতোই বেশি যে, তা আলোর গতির চেয়েও কয়েকগুণ বেশি! তাই, মহাবিশ্বের দূরতম নক্ষত্রগুলো হতে আগত আলো এ গতিকে টেক্কা দিয়ে আমাদের নিকট পৌঁছাতেই পারছে না! কারণ, আলোর গতি নির্দিষ্ট, সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কি.মি.!
আর তাই, উপরোক্ত দুই কারণেই মহাবিশ্বকে তথা মহাকাশকে অন্ধকার দেখায়।
যদি আমরা ইনফ্রারেড রশ্মিও দেখতে পেতাম তবে আকাশে কালো রঙের কোন অস্তিত্বই পেতাম না৷ দেখতাম দিনের আকাশ আর রাতের আকাশ একই রকমের উজ্জ্বল। কারণ, তখন রাতের আকাশে সকল নক্ষত্র গ্যালাক্সির আলোর সম্মিলিত রুপ সব দেখতে পেতাম। আকাশে যে বিপুল পরিমাণ স্হানকে আমরা একদম শূণ্য বা, ফাঁকা বলে দেখি, আসলে সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে মহাজাগতিক বিকিরণ, যা বিগ ব্যাং এর পরপরই সৃষ্টি হয়েছিলো। বর্তমানে তার তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ কেলভিনের কাছাকাছি। অর্থ্যাৎ, তা ইনফ্রারেড বিকির্ণ করছে। তাই আকাশের সমস্ত জায়গাকেই আমরা উজ্জ্বল দেখতাম। এমনকি দেখতাম আমাদের শরীরেও আলো বিকিরন করছে, কারন আমাদের শরীরও ইনফ্রারেড নির্গত করে, ঘরের সমস্ত কিছুই দেখতাম আলো বিকিরন করছে এমনকি ঠান্ডা বরফও।

শাকিল সাজ্জাদ

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয়