বায়তুল মোকাররমে ও জাতীয় সংসদ শুটিংয়ের অনুমতি চান “ফারুকী”

0
212

বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ও জাতীয় সংসদ শুটিং করার অনুমতি চান তারকা নির্মাতা “মোস্তফা সরয়ার ফারুকী”। তার মতে, দেশের আইকনিক স্থান গুলো শুটিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত। এতে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সারা বিশ্বের মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব! বৃহস্পতিবার (February 24) মধ্যরাতে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এমন দাবি তুলেছেন ফারুকী। এই নির্মাতার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘অস্ট্রেলিয়া বললে আমাদের চোখে কোন ইমেজ ভাসে? সিডনি অপেরা হাউজ আর হারবার ব্রিজ। কখনো নরমাল টাইমের ছবি, কখনো বা ভাসে থার্টিফার্স্ট সেলিব্রেশনের আলোক সজ্জাসহ ছবি। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনের মধ্যে একটা আর্কিটেক-চারালি রিচ ফুর্তিবাজ দেশের পারসেপশন তৈরি হয়। আদতে এই জায় গাটা সিডনির খুব ছোট একটা অংশই। বৃহৎ সিডনি মূলত শান্ত-শীতল এক কান্ট্রিসাইড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ভাবলে আপনার মাথায় অলস, শান্তশীতল কোনো জায়গা মনে না হয়ে আর্কিটেক-চারালি রিচ ফুর্তির জায়গা যে মনে হয়, এটা ইমেজের ম্যাজিক। পুরো দুনিয়ার পত্রিকায় এবং আপনার নিউজ ফিডে এত এত বার অপেরা হাউস আর হারবার ব্রিজের ছবি ছাপা হয়েছে এবং হচ্ছে যে আপনার মাথায় এটা গেঁথে যাচ্ছে। এখন একবার ভাবেন, অস্ট্রেলিয়া গভর্মেন্ট যদি আইন করে এই সব জায়গায় ছবি তোলা যাবে না বা শুটিং করা যাবে না, তাহলে কিন্তু আর এই ইমেজটা আপনার মাথায় গাঁথতো না।

আমাদের একটা সংসদভবন আছে। যেটা সারা দুনিয়া একটা আইকনিক স্ট্রাক চার হিসাবে আমরা হাজির করতে পারতাম। কিন্তু আপনি সেখানে শুটিং করতে পারবেন না কারন সেটা কেপি আই জোন। বিশেষ অনুমতি নিয়ে শুটিং করা সম্ভব, যেটা অনেকের পক্ষেই পাওয়া কঠিন। তাই বলি, আপনি আপনার দেশের সেরা জায়গা গুলোতে যদি শুটিং না করতে দেন, তাহলে তো আপনার আফসোস করা উচিত না যে ‘তোমরা বাংলাদেশকে প্রপারলি দেখাও না’।

আরেক টা কথা মাঝে মধ্যে শুনি। হিন্দু বা খ্রিষ্টধর্মের অনুষ্ঠান গুলা বাইরে ফিল্ম মেকাররা এত সুন্দর করে তুলে ধরে, আমাদের ফিল্ম মেকাররা মুসলমানদের রিচুয়াল গুলাকে সেভাবে তুলে ধরে না। কথা সঠিক। কিন্তু যারা এই কথা গুলো বলে তাদেরকে আমি জিজ্ঞেস করি ‘আমার একটা দৃশ্যের জন্য বায়তুলমোকারম মসজিদের ভেতরে শুটিং করা দরকার, যেখানে দেখা যাবে হাজার-হাজার লোক এক সঙ্গে জুম্মা আদায় করছে। একটু জোগাড় করে দিতে পারবেন?’ সঙ্গে সঙ্গে দেখি উনারা আমতা আমতা করতে থাকেন। আপনি মসজিদে শুট করতে দিবেন না, কিন্তু চাইবেন আপনার ধর্মের সুন্দর রিচুয়াল গুলো মানুষ জানুক, সেটা কীভাবে হবে? আপনার প্রার্থনার সুন্দর এবং পবিত্র জায় গার ছবি তুলে প্রচারের মাধ্যমে সেটার সৌন্দর্য কমে না, পবিত্রতা ও কমে না। বরং অনেকের কাছে সে সৌন্দর্য পৌঁছানোর একটা রাস্তা হয়। সংসদ ভবন বা এ রকম বিশেষ স্থাপনার ছবি তুলে প্রচারের মাধ্যমে এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় না। আজকাল গুগল-ম্যাপেই সব টার্গেট দেখা যায়। শুটিংয়ের ফুটেজ থেকে ছবি নিয়ে নিরাপত্তার প্রতি হুমকি তৈরি করতে হয় না।

যে কথা বলতে এত কথার অবতারণা, দয়া করে শুটিংয়ের জন্য সব কিছু উন্মুক্ত করে দেন। একটা ফিল্ম-কমিশন গঠন করেন যেখানে লোকেশন সার্ভিস ডেস্ক থাকবে। যার যেখানে শুট করা প্রয়োজন সেটা উল্লেখ করে ওই কমিশনে আবেদন করবে। সঙ্গে নির্ধারিত ফি-ও জমা দেবে এবং তিন কার্য দিবসের মধ্যে তাদের অনুমতি দিয়ে দেওয়া হবে। সঙ্গে ধরিয়ে দিতে পারেন লোকেশন স্পেসিফিক নিয়ম-কানুন। ব্যস, সব কিছু সুন্দর একটা সিস্টেমে চলে আসলো। সারা পৃথিবীতেই এই ফিল্ম-কমিশন এবং লোকেশন সার্ভিস ডেস্ক আছে। দয়া করে আমাদের এখানেও এটা চালু করেন। ধন্যবাদ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here