প্রবাস তুমি যা বুঝো, আমি তা বুঝি না!

0
329

ছেলেঃ আব্বু তুমি বিদেশে গিয়েই আমাকে একটা টাচ মোবাইল দিবা। মাকেও একটা দিবা। আগের টা পুরাণ হইয়া গেছে। নতুন মডেলের একটা মোবাইল আইছে। আর আমারে এস এস সি পাশ করলেই মোটর সাইকেল কিনে দিতে হবে। একটা লেপটপ ও কিনে দিতে হবে।

বাবাঃ আচ্ছা বাবা সব কিনে দিমু। আগে তুমি পড়াশোনা টা ভালো করে করো। মায়ের সাথে ঝগড়াঝাটি করো না।
তোমরা সবাই ভালো থেকো। ( এক পাহাড় কষ্ট ও দু ফোটা চোখের পানি নিয়ে মা-বাবা, বউ, বাচ্চা, মায়ার দেশের দিকে বার বার ফিরে তাকানো বাবাটি চলে আসে নিজের জীবন কোরবানি করে সবার স্বপ্ন পূরনের প্রত্যাশায়।)

প্রবাসের প্রবাসীঃ কয়েকটি ইটের মধ্যে সামান্য কিছু সিমেন্ট ধারা নির্মিত অট্টালিকায় জন্মভূমির অতি যত্নে গড়া অসহ্যকর সেরোয়ানী ছেড়ে চিরচারিতো ৪০/৪৫° সেলসিয়াস প্রচন্ড উত্তাপ থেকে রুপ রক্ষা কারী পোশাকটি অতি দ্রুত পড়ে সাধের মাজরায় নেমে শুকনো মরুর বুকে শরীলের এক এক ফুটা রক্তে ভিজানো মরুতে উৎপাদিত ফসলের প্রতিটি গোড়ায় গোড়ায় স্বপ্ন দেখতে থাকেন বাবা প্রবাসী।
রোদে পুড়ে যাওয়া কুচকুচে কালো খেয়ে না খেয়ে বাবা ছেলের সাথে ভিডিও কলে আসে না ছেলে কিছু বুঝবে বলে। যখন ছেলে জিজ্ঞেস করে বাবা তুমি খাইছো? হা বাবা খাইছি। তুমি খাইছো। নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করবা। রোদে বেশি ঘুরাঘুরি করবা না। শরীল খারাপ হবে।
হতাশার গ্লানিঃ
অন্যদিকে, টাকা-সম্পদ দিয়ে কিনা চির পরিচিত শব্দ, মিসকিন, হাইওয়ান, বগর ইত্যাদি শব্দে লাঞ্চিত হায়নার ভয়াল থাবা থকে বছরে বছরে কে ই বা বাচায়।
বাবা-মায়ের সোনা মানিক ছেলের সোনা মুখটি দূষিত হয় হায়নার বিষাক্ত লালায়।

ভাগ্যের লিলা খেলায় মরুর প্রতিকূলতায় জিতে গেলে পরিবারের চাহিদার পাশাপাশি ছেলে, মেয়ে, মা, বাবা, বউ সবার বিলাসীতার সুযোগ করে দেন।
তাছাড়া মরুর ভয়ংকর থাবায় ঘায়েল যখন বাবার ছোট্ট স্বপ্ন টুকু খন্ড খন্ড হয়ে তাবুর ভেতর দুকে দুকে নোনা জল শুকায় তখন কে বুঝাবে, বাবা তোমার শখ, বন্ধুদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা, সবার চাইতে নিজেকে আলাদা করে দেখানোর সুযোগ টি বাবায় পুরন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here