রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪
Homeসারাদেশসিলেটদোয়ারাবাজারে স্বাধীনতার ৫১ বছরে লাগেনি উন্নয়নের ছোয়া।যেখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা ১৩টি ...

দোয়ারাবাজারে স্বাধীনতার ৫১ বছরে লাগেনি উন্নয়নের ছোয়া।যেখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা ১৩টি গ্রামের মানুষের

সুনামগঞ্জের দোয়ারবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হাছনবাহারের ভাঙ্গায় নদী পারাপারে ১৩ টি গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। বছর ঝুরে বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই সব এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী, স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
বছরের পর বছর একটি ব্রীজের অপেক্ষায় কষ্টে দিন পার করছে সুরমা ইউনিয়বাসী।

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন আসলে উন্নয়নবঞ্চিত এ এলাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের মুখে শুধু আসা আর স্বপ্নের ফুলঝুরি ফোটে। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা মিলেনা। বছরের পর বছর চলে গেলে ও মিথ্যা আশ্বাসের কোন শেষ নেই।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,সুরমা ইউনিয়নের হাছনবাহার গ্রামের বাঁশের সাকোর উত্তর দিকে সুলতানপুর,নোয়াপাড়া,হযরত শাহজালাল হিঃকোঃ দাখিল মাদ্রাসা রসরাই ,মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু হাইস্কুল,লক্ষীপুর ইউনিয়ন ক্লিনিক,এরোয়াখাই,বাংলাবাজার এবং দক্ষিনে হাছনবাহার, বৈঠাখাই শাহ্আরফিনবাজার,বৈঠাখাই মাদ্রাসা, আলীপুর, মুহিবুর রহমান মানিক উচ্চ বিদ্যালয়,সোনাপুর,নূরপুর বাজার এলাকা অবস্থিত। এসব এলাকার লোকজনকে এই সাঁকো ব্যবহার করে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়। সাঁকোর পরিবর্তে ব্রীজ হবে হচ্ছে বলে স্বাধীনতার ৫১ বছর পার হলে ও একটি ব্রীজের কারনে এই এলাকার মানুষ বছরের পর বছর জীবনের ঝুকি নিয়ে নদী পার হয়ে জীবন পার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা (সফটওয়্যার ডেবলাপার)
কামরুল ইসলাম বলেন, বছরে ৬ মাস এই এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়। এলাকার রাস্তা ঘাটের অবস্থা খুবি খারাপ। অসুস্থ রোগিদের জরুরী চিকিৎসায় নিতে দুংশ্চিন্তায় ভুগতে হয়, অনেক সময় চিকিৎসায় যাওয়ার পথে রাস্তায় রোগি মারা যাওয়ার ঘটনা ঘঠেছে। এসব এলাকার মানুষের দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। নদীপারাপারের ব্যবস্থা নাজুক থাকায় অনেকে আবার ছেলে -মেয়ে বিয়ে দিয়ে আত্মীয়তা করতে বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

হাছনবাহার জামে মসজিদের সভাপতি আব্দুল আলী বলেন,স্বাধীনতার পর থেকেই এই এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। আমাদের একটি স্বপ্ন ছিল হাছনবাহার ভাঙ্গায় একটি সেতু হবে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা শত আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর তা কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমাদের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থাকে। বাস্তবায়ন আর হয় না। আর কবে যে সেতু হবে আল্লাহই ভালো যানে।

বৈঠাখাই শাহ্আরফীনবাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আব্দুল মালেক বলেন,
হাছনবাহারের ভাঙ্গায় যদি ব্রীজ হয় সুরমা,লক্ষ্মীপুর মান্নারগাঁও তিন ইউনিয়নের মানুষ সদর ও জেলা শহরে যেতে কোন অসুবিধা হবেনা। মানুষের যাতায়াতের জন্য এই ব্রীজটি খুবই গুরত্বপূর্ণ।
তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে এই ভাঙ্গা পার হয়। কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনতে ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ন এই ভাঙ্গায় ব্রীজের দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।

আলীপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুল কাদির জানান, হাছনবাহার ভাঙ্গার সাঁকো পার হয়ে আমাদেরকে কলেজে যেতে হয়। চলার সময় সেটি দোলে। অনেকে সাইকেল নিয়ে কলেজে যাই। এতে প্রায়ই সাইকেল নিয়ে পানিতে পড়ে অনেকে।

সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যাবসায়ী রহমত আলী বলেন,ব্যাবসার মালামাল আনতে বৈঠাখাই শাহ্আরফিনবাজারে যেতে হয়।
কিন্তু হাছনবাহারের ভাঙ্গায় গেলে আর মন চায় না যে, এতো লম্বা সাঁকো পাড়ি দিয়ে বাজারে যাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর।

রসরাই দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা, তাহুরা আক্তার বলেন,বর্ষা কিংবা সারা বছরই হাছনবাহারের ভাঙ্গায় বাসের এই দীর্ঘ সাঁকো পারাপার হতে না পেরে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা অনকেদিন বাড়ি ফিরে যায়। এতে শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাহত হচ্ছে।

সুরমা ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম (বীরপ্রতীক) জানান, হাছনবাহারের ভাঙ্গা কয়েকটি এলাকার মানুষের চলাচলের বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। একটি ব্রীজ জরুরী। আমি আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।

দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন, হাছনবাহার ভাঙ্গাটি আমার চেনা নেই। খুজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।

দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চোধুরী বলেন, হাছনবাহার ভাঙ্গাটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগনদের দায়িত্ব ছিলো বিষয়টি আমাকে জানানো। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগন বিষয়টি আমাকে অবগত করলে আমি সরজমিনে পরিদর্ন করে মানুষের চলাচলের দূর্ভোগ লাগবে দ্রুগ ব্যাবস্থা নিবো।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ):

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয়