ঘরে ফিরতেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার।

0
242
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

কিছুদিন আগে ঢাকার লাল-বাগ এলাকায় এক কলেজ ছাত্রী দল বদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। দুর্বৃ ত্তরা পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফেলে রেখে যায়। এর পরই গোপাল গঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলেন। তিনি গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে, যিনি একই বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র, গোপাল গঞ্জ শহরের হেলি প্যাড থেকে নবীন বাগে তাঁর মেসে ফিরছিলেন। এ সময় ৪ থেকে ৫ জন দুর্বৃত্ত তাঁদের গতি রোধ করে এবং পার্শ্ববর্তী একটি স্কুল ভবনে নিয়ে ছাত্রী টি কে ধর্ষণ করে। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ঢাকা-খুলনা মহা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে অবশ্য প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এ ২ টি ঘটনা দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি যেমন সামনে নিয়ে এসেছে, তেমনি নারীর নিরাপত্তা হীনতাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী যদি ক্যাম্পাস থেকে নিজের মেসে যেতে ধর্ষণের শিকার হন, তাহলে বুঝতে হবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। আমরা কোন সমাজে বাস করছি, যেখানে ১ জন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ক্যাম্পাস থেকে নিজের ঘরে ফিরতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। অন্য দিকে সরকার একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও অর্ধেক শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করেনি। ফলে ছাত্র তো বটেই, ছাত্রীদের ও ১ টা বড় অংশকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। ছেলেরা যে কোনো স্থানে থাকতে পারেন। কিন্তু মেয়েদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। বশেমুরবিপ্রবিতে তিন হাজার ছাত্রীর মধ্যে আবাসন হলে ঠাঁই হয়েছে মাত্র সাত শ. জনের। বাকি ছাত্রীদের ঘর ভাড়া করে থাকতে হয়। এটাও তাঁদের নিরাপত্তা হীনতার অন্যতম কারণ।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো গোপাল গঞ্জে সহ-পাঠীর ধর্ষণের প্রতিবাদে যখন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলেন, তখন স্থানীয় লোক জন ও ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ আছে। এতে বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে জনগণের ভোগান্তি হলে সেটি দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের, স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের নয়। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটি ধর্ষণের শিকার হন, তখন তাঁরা কোথায় ছিলেন? তাহলে কি দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীদের কোনো যোগসাজশ আছে?

দুর্বৃত্ত দের নিবৃত্ত করা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তারা কতটা পালন করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের একজন এলাকায় আগে থেকে
নানা দুষ্কর্ম করে আসছিলেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন নাকে তেল দিয়ে না ঘুমালে হয়তো মেয়েটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার
হতেন না। গ্রেপ্তার অপর দুজন স্থানীয় হরিজন সম্প্রদায়ের। সংশ্লিষ্ট পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তাঁদের সন্তানেরা নিরপরাধ। প্রভাব শালীদের রক্ষা করতেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুতর। সত্যিই
তাঁরা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত না নিরপরাধ, তা–ও ভালোভাবে খতিয়ে
দেখতে হবে।

গোপাল গঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দুজনই নারী।
১ জন নারীর ওপর দুর্বৃত্তদের পাশবিক হামলার অভিঘাত কতটা মারাত্মক, পুরুষ কর্ম-কর্তারা উপলব্ধি করতে না পারলেও তাঁরা পারবেন আশা করি। অবিলম্বে সব দুর্বৃত্ত কে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা হোক। তাঁদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here